গাজা সংকট: ইসরায়েলের দাবি—ইউরোপের দেশগুলোকে শরণার্থী নিতে হবে

1
151
গাজা সংকট: ইসরায়েলের দাবি—ইউরোপের দেশগুলোকে শরণার্থী নিতে হবে
rootbangla

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, যেসব ইউরোপীয় দেশ গাজায় ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে, তাদের এখন গাজার শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গাজার যে বাসিন্দারা অন্য দেশে যেতে চান, তাদের জন্য ইসরায়েল সুযোগ তৈরি করবে। সেনাবাহিনী এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে, যাতে গাজার মানুষ স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অন্য দেশে যেতে পারে।

কাটজ আরও বলেন, “স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ যারা আমাদের সমালোচনা করেছে, তারা আইনগতভাবে বাধ্য গাজার মানুষদের আশ্রয় দিতে।”

✔️ ইসরায়েল বলছে, ইউরোপের দেশগুলো গাজার শরণার্থীদের নিতে বাধ্য।
✔️ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ট্রাম্পের গাজা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
✔️ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বিবেচিত হয়।
✔️ গাজায় সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪৭,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত, ১৩,০০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ট্রাম্পের প্রস্তাব মানতে নারাজ

সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে “নিয়ে নেওয়া” ও “নিয়ন্ত্রণ করা” সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দেন। তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়, এবং হোয়াইট হাউস জানায়, “ট্রাম্প গাজায় সেনা পাঠানো বা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।”

তবে তার মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরব বলেছে, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।”

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপে “দুই-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে” আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন : ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলকে “ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদ করে জাতিগত নিধন চালানোর” অভিযোগ এনেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধি লামা ফাকিহ বলেন, “ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, এটি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধাপরাধের সহযোগী নয়, বরং সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ী করবে।”

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা জরুরি, এবং জাতিগত নিধনের যেকোনো প্রচেষ্টা এড়াতে হবে।”

গাজার বর্তমান পরিস্থিতি

১৫ মাস আগে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১,২০০ মানুষ হত্যা ও ২৫০ জনকে অপহরণ করেছিল। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে ৪৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, এর মধ্যে ১৩,০০০ শিশু।

বর্তমানে গাজার ৯০% মানুষ বাস্তুচ্যুত, আর অঞ্চলটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

📌 সংবাদসূত্র: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।

 

আরো পড়ুন : ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুর: অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি প্রকাশ

Facebook Comments

rootbangla